১০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাছতলায় আশ্রয় ৮০ বছরের বৃদ্ধ মায়ের ছেলের ঘরে হলো না ঠাঁই

পাবনা উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মায়ের গাছতলায় মানবেতর জীবনযাপনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃদ্ধার অভিযোগ, ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি আর ছেলের বাড়িতে থাকতে পারছেন না।

 

ভুক্তভোগী মোছা. হালিমা খাতুন, পিতা: মৃত আলিমুদ্দিন মোল্লা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি নিজের সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করেছেন এবং ছেলের সংসার গড়ে দিতে ঘর নির্মাণ ও বিয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

 

বর্তমানে তিনি তার ভাইদের বাড়ির সামনে একটি গাছের নিচে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

এ বিষয়ে পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল্লাহ মাস্টার বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে জানানো হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে যাব। এসিল্যান্ড মহোদয়ও সেখানে আসবেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অভিযুক্ত ছেলে মো. রবিউল করিমকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা আমার শাশুড়িকে বাড়ি থেকে বের করে দিইনি। তিনি নিজ ইচ্ছায় চলে গেছেন। তাকে ফিরিয়ে আনতে আমি কয়েকবার গিয়েছি, কিন্তু তিনি আসতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, বাবার সম্পত্তিতে যে অংশ পাবেন, সেখানে একটি ছাপড়া তুলে থাকবেন।

 

বৃদ্ধার ভাই ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির দাবি, প্রায় এক মাস ধরে তারা তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি সেখানে থাকতে বা খাবার গ্রহণ করতে রাজি হননি। তার একমাত্র দাবি, বাবার সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশে একটি ছোট ঘর তুলে বসবাস করবেন।

 

বৃদ্ধা হালিমা খাতুনও একই কথা জানান। তিনি বলেন, তিনি আর ছেলের বাড়িতে ফিরে যেতে চান না; বাবার সম্পত্তিতে নিজের জায়গায় থাকতেই চান।

 

উল্লেখ্য, ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

পতেঙ্গায় সমাজ সেবক চন্দন মহাজনের পরলোক গমন, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের শোক

গাছতলায় আশ্রয় ৮০ বছরের বৃদ্ধ মায়ের ছেলের ঘরে হলো না ঠাঁই

আপডেটে: ০১:২৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

পাবনা উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মায়ের গাছতলায় মানবেতর জীবনযাপনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃদ্ধার অভিযোগ, ছেলে ও পুত্রবধূর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি আর ছেলের বাড়িতে থাকতে পারছেন না।

 

ভুক্তভোগী মোছা. হালিমা খাতুন, পিতা: মৃত আলিমুদ্দিন মোল্লা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি নিজের সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করেছেন এবং ছেলের সংসার গড়ে দিতে ঘর নির্মাণ ও বিয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

 

বর্তমানে তিনি তার ভাইদের বাড়ির সামনে একটি গাছের নিচে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

এ বিষয়ে পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল্লাহ মাস্টার বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে জানানো হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে যাব। এসিল্যান্ড মহোদয়ও সেখানে আসবেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অভিযুক্ত ছেলে মো. রবিউল করিমকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা আমার শাশুড়িকে বাড়ি থেকে বের করে দিইনি। তিনি নিজ ইচ্ছায় চলে গেছেন। তাকে ফিরিয়ে আনতে আমি কয়েকবার গিয়েছি, কিন্তু তিনি আসতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, বাবার সম্পত্তিতে যে অংশ পাবেন, সেখানে একটি ছাপড়া তুলে থাকবেন।

 

বৃদ্ধার ভাই ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির দাবি, প্রায় এক মাস ধরে তারা তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি সেখানে থাকতে বা খাবার গ্রহণ করতে রাজি হননি। তার একমাত্র দাবি, বাবার সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশে একটি ছোট ঘর তুলে বসবাস করবেন।

 

বৃদ্ধা হালিমা খাতুনও একই কথা জানান। তিনি বলেন, তিনি আর ছেলের বাড়িতে ফিরে যেতে চান না; বাবার সম্পত্তিতে নিজের জায়গায় থাকতেই চান।

 

উল্লেখ্য, ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।